বর্তমানে স্মার্টফোন অতি সহজলভ্য। এমন লোক খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর যার হাতে একটি স্মার্টফোন পাওয়া যাবে না। এর কারণ হচ্ছে এর দামের ক্রমাগত কমতি। কিন্তু, দেখা যায় এটির আয়ু অনেকসময় স্বল্প হয়ে যায় কিবা ব্যাটারির আয়ু কমে যায় অথবা অন্যান্য সমস্যায় পড়তে হয়। কারণ, স্মার্টফোনের ফাংশনালিটি অনেক। কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে ইত্যাদি সমস্যা অনেকটা এড়ানো সম্ভব হয়।
১) দেখেশুনে ফোন ক্রয় করুন
সস্তায় উন্নত কনফিগারেশনের ফোন দেখে কিনার ব্যাপারে চিন্তা করা উচিত। কারণ, বাজারে অনেক ডুপ্লিকেট ফোন পাওয়া যায়। যেগুলো কিনে অনেক প্রতারিত হতে হয়। তাছাড়া আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ফোন ক্রয় করবেন। আপনার ব্যবহারের দিকগুলো বিবেচনা করে সিলেক্ট করবেন।
২) কভার ও স্ক্রিন পেপার ব্যবহার করুন
ফোনের একটি কভার ও স্ক্রিন পেপার আপনার ফোনকে অনেকখানি সুরক্ষা দেবে। হতে পারে, এক্সিডেন্টলি আপনার হাত থেকে পড়ে যাওয়া বা আঘাত থেকে রক্ষা পাবে।
৩) নিয়মিত স্ক্রিন পরিস্কার করুন
ফোনের স্ক্রিন শুকনো কাপড় বা টিস্যু দিয়ে নিয়মিত পরিস্কার করুন। ভিজা কাপড় ব্যবহার করবেন না। তাছাড়া স্ক্রিনে অনেক জার্মও থাকে, যা দূরীভূত হবে।
৪) ক্লাস, মিটিং, অফিস কিবা যান চলাচলে ফোন সাইলেন্ট রাখুন
ক্লাস, মিটিং কিবা এ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ফোন সাইলেন্ট রাখা ভদ্রতার অংশ। তাছাড়া এসব জায়গায় ফোন রিসিভ করতে গেলেও সমস্যা ঘটতে পারে।
৫) ফোন উষ্ণ স্থানে রাখবেন না
ফোন রাখার জন্য একটি উত্তম স্থান নির্বাচন করুন। হতে পারে আপনি লম্বা সময়ের জন্য রাখবেন। সেক্ষেত্রে আদ্র ও শীতল স্থানে রাখুন।
৬) রাতে ফোন মাথার পাশে রাখবেন না
ফোন এক ধরনের ক্ষতিকর রেডিয়েশন ছড়ায়। যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই, রাতে শোয়ার সময় মোবাইল ফোন দূরে রাখবেন।
৭) সঠিকভাবে চার্জ দিন
ফোনে একেবারে ১০০% চার্জ দেয়া কিবা ২০% এর নিচে নামতে দেয়া ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দেয়। ৯০-৯৫% পর্যন্ত চার্জ দিন। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসে কমপক্ষে একবার ০% চার্জ পর্যন্ত কমতে দিলে ব্যাটারির জন্য ভালো। কারণ, এগুলো লিথিয়াম আয়নের ব্যাটারি। আর ফোনের অর্জিনাল চার্জার কিবা একি ব্র্যান্ডের চার্জার ব্যবহার করুন। কম দামি কিবা অন্যান্য চার্জার ফোনের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া রাতে ফোন চার্জে রেখে ঘুমাবেন না। এতে ১০০% চার্জ হয়ে ওভার হওয়ায় ব্যাটারির আয়ু কমবে। আর ব্যাটারি সেভার এপ্লিকেশন এড়িয়ে চলুন। নিজেউ এপ্লিকেশন হিসেবে কাজ করুন।
৮) রিসেন্ট এপ ক্লিয়ার করা থেকে বিরত থাকুন
একটি এপ একবার ফোর্স নিয়ে চালু হবার পর রিসেন্ট ট্যাবে জমা হয়। পরবর্তীতে আবার ওপেন করলে আবারও শুরু থেকে চালু না হয়ে রিসেন্ট থেকে চালু হয়।আর সেগুলো ক্লিয়ার করতে থাকলে এভাবে এপ্লিকেশন প্রতিবার শুরু থেকে চালু হওয়ায় ফোনে চাপ পড়ে।
৯) দেখেশুনে এপ ইনস্টল করুন
যেকোনো সোর্স থেকে ইন্সটল করা ফোনের জন্য বিপজ্জনক। তাই, গুগল প্লে এর মতো বিশ্বস্ত সোর্স থেকে ইন্সটল করুন।
১০) ডার্ক স্ক্রিন, ডার্কার ব্যবহার করুন
ফোনে সবচেয়ে বেশি চার্জ নেয় স্ক্রিন। তাই, ডার্কার এবং ডার্ক স্ক্রিন কম চার্জ নেবে। আর অধিক এনিমেশনের ওয়ালপেপার ব্যবহার করবেন না।
১১) এন্টি থেফ্ট ব্যবহার করুন
ফোন চুরি গেলে অটোমেটিক অফ করার ক্ষেত্রে কম্পানি ব্র্যান্ডের উপর নির্ভর করে এন্টি থেফ্ট এপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
১২) নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট রাখুন
আপনার এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম আপডেট চাইলে আপডেট দিন। এতে, ফোনের জন্য অনেক উপকারী হবে।
পরিশেষেঃ
ফোনের ব্যবহারের গাফিলতির কারণে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যও হয়ে যেতে পারে চুরি। তাই, এই যুগে আপনাকে প্রযুক্তির সাথে আপডেট থাকা অতি জরুরী।

