ভেবে দেখুন মানসিক চাপ কি? আসলে এই বিসয়টাই আমাদের মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে। আর সেটি যদি আমরা সঠিক ভাবে মোকাবেলা করতে না পারি তবে আমদের নানা রকমের শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ তৈরি করে এবং আমাদের স্বাভাবিক ভালথাকাকে হুমকির মুখে ফেলে।
যেটা আমদের মধ্যে চাপ তৈরি হতে পারে, আমরা যদি এটাকে ঠিকমত মোকাবেলা না করতে পারি বা আমরা মনে করি এটাকে মোকাবেলা করার মত যথেষ্ট প্রস্তুতি আমার নেই, তাহলে আমাদের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই কিছু দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হবে, এটাই মানসিক চাপ !
যেমনঃ পরীক্ষা দেওয়াই হোক বা নির্দিষ্ট সময় এ আফিস এ পৌঁছানোই হোক আথবা যে কোন শারীরিক সমস্যাই হোক, এই চাপ কিন্তু আমদের জীবনের প্রতিনিয়তই এরকম বিভিন্ন ঘটনা এবং চাপ থাকবেই। আসলে কি, এই চাপ থাকার কারনেই কিন্তু জীবন সামনে এগিয়ে নিতে যেতে বা অনুপ্রেরণা যোগাতে সাহায্য করে। অর্থাৎ যখন কোন কিছুতে চাপ বা প্রতিযোগিতা থাকে না তখন আমাদের জীবন খুব নিস্তরঙ্গ হয়ে যাবে।
যদি আমরা চাপ কমাতে চাই তবে মূলত দুটো জিনিস এর উপর কাজ করতে হবেঃ
প্রথমতঃ আপাত দৃষ্টিতে মানসিক চাপ যুক্ত বিষয়টা কে আমরা কিভাবে দেখছি বা কি ভাবে দেখতে পারি।
দ্বিতীয়তঃ মানসিক চাপের কারনে যে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে তা আমরা কি ভাবে মোকাবেলা করতে পারি।
তাই যখন আমরা ভাবি যে এরকমতা আমার/আমাদের সাথে হতেই হবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করি, তখন না হলে এটা থেকে সামান্য তমও বিচ্যুতি হওয়া মেনে নিতে চাই না । তাহলে কিন্তু সেই বিষয়টাই আমদের জন্য অনেক বেশি চাপ যুক্ত হয়ে যায়। আর এই মানসিক চাপই আমরা প্রায় সবসময়ই নিয়ন্ত্রণ এ রাখতে পারিনা।
আমরা যেমন চাইব সে ভাবেই জীবন হবে, এরকমতা হলে জীবনের আনন্দ বলে কিছুর উপস্থিতি থাকবে না। অর্থাৎ আপনি যেমন চাইবেন, সব সময় সব সময় তেমন কখনোই হবে না। যদি হয়ে যায় তবে অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্র প্রতি শুক্রিয়া জ্ঞাপন করা অবশ্যই উচিত। আর মনের মতন না হলেও, আপসোস না করে সাহায্য চাওয়া উচিত।
কাজেই আমরা কি ভাবে জীবনের বিষয় গুলো দেখছি, তা যদি একটু হলেও পরিবর্তন করতে পারি তাহলে কিন্তু অনেক সমস্যারই মোকাবেলা সম্ভব । মনেকরুন, একটা ঘটনা ঘটে গেছে এবং যা আমদের নিয়ন্ত্রণ এ নেই, সেই ক্ষেত্রে যদি আমরা দ্রুতু মেনে নিতে পারি, তাহলে কিন্তু আমাদের জন্য সামনের পথ চলা সবসময় সহজ হবে। আথবা যদি একটু ভিন্ন ভাবে দেখি যে, কোন ঘটনা ঘটে যাবার পর তার ছোট-খাটো ভালো দিকগুলোর দিকে লক্ষ্য করি, তাহলে কিন্তু আমরা সমস্যা টাকে মোকাবেলা করার যে সাহস বা মানসিক শক্তি তা নতুন করে ফিরে পেতে পারি।অর্থাৎ সহজ ভাবে মোকাবেলা করতে পারলেই কিন্তু দুশ্চিন্তা কমে যায়।
এটিও সত্য যে, যখন আমরা বড় ধরন এর চাপের মধ্যে পরে যাই তখন সঠিক ভাবে আমাদের মস্তিক চিন্তা করতে পারে না।যেমনঃ আমরা কোন কিছুতে হেরে যাই বা কোন কিছু তে সফলতা অর্জন করতে পারিনা তখন আমাদের মস্তিষ্ক আনেক সঙ্কুচিত চিন্তা ভাবনা শুরু করে। নিজেকে খুব অযোগ্য, ব্যর্থ অথবা আমি অসলেই খারাপ বলেই এমন হয়েছে, এরকম মনে হয়।
এরকম ক্ষেত্রেঃ ক্ষেত্রে আমরা দ্বিতীয়/তৃতীয় কোন বিশ্বস্ত ব্যাক্তির সাথে শেয়ার করতে পারি, যার প্রতি আমাদের আস্থা এবং বিশ্বাস আছে এবং আমদের প্রতি যার আস্থা আছে। এতে যা সুবিধা হয়, আমাদের মনের যে কষ্ট বা আমদের মনের যে উদ্বেগ অন্যের সাথে ভাগা-ভাগি করলে আনেকটাই হালকা হতে পারা যায়।তিনি যে আমাদের কথা গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছে তাও আমাদের আত্মনির্ভরশীলতাকে বৃদ্ধি করে। এবং তার প্রতি আমাদের যে ভালোবাসা থাকে তা কিন্তু আমাদের মানসিক শক্তি যোগায় সেখান থেকে বেড়িয়ে আসতে।তখন দ্বিতীয়/তৃতীয় ব্যাক্তি বিষয়টি খোলা ভাবে দেখার সুযোগ পায় এবং আলাদা ভাবে দেখার ফলে তারা আমাদের ভালো দিকগুলো সহজেই ধরিয়ে দিতে পারেন যা আমাদের সহজ ভাবে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।
অর্থাৎ, মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে চাইলে আপনি আপনার দেখার দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন করুন এবং চাপ গ্রহনের মনোভাব মনের অন্তরস্থল থেকে বাড়িয়ে তুলুন। এবং প্রতিজ্ঞা করে নিন, সামনে যখন আমরা চাপ নিব, তখন তার পজেটিভ - নেগেটিভ দিক নিয়ে আগেই ভেবে রাখব। সর্বোপরি, যে কোন অবস্থায় বাস্তবতা মেনে নিয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনায় মনযোগী হবো শান্তি প্রার্থনা করতে। সেক্ষেত্রে এটা নিশ্চিত যে, অনেক বড় ভালো কিছু হয়তো না চাইলেও পেতে পারেন।
