সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন, শক্তি, শান্তি ও সমৃদ্ধি আনে - BIKRIA.COM | কালের ক্যানভাস

Mobile Menu

Top Ads


More News

logoblog

সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন, শক্তি, শান্তি ও সমৃদ্ধি আনে

Author Image Wednesday, May 13, 2020








আধুনিক যুগে এসে অনেক মুসলিমদের নিকট ইসলাম সেকেলে লাগে। ১৪০০ বছর আগের নিয়ম এখনো কিভাবে মানা যায় এমন ভাবনা। তবে, অনেকেই খেয়াল করে না যে, সে আধুনিক অনেক বিজ্ঞানসম্মত বিষয়াদি খুব সযত্নে পালন করে এবং অপরকে সে ব্যাপারেে উৎসাহ দেয়, সেগুলো সত্যিই সেকেলে, ইসলামি। কারণ, সে তা জানেনা। জানতেও চায়না। তবে, আলী (রা) একটি সুন্দর উক্তি রয়েছে যে, যে ব্যক্তি জানেনা, সে মুর্খ নয়। যে ব্যক্তি জানতে চায়না, সে-ই আসল মুর্খ। 

চলুন, কিছু উপায় নিয়ে আলোচনা করা যাক। যেগুলো আপনার দৈনন্দিন জীবনে আরো সৌন্দর্য বয়ে আনবে।

১) মিসওয়াক ব্যবহার করুন 
আমরা সবাই ব্রাশ ব্যবহার করি। কিন্তু, আপনি জানেন কি? ব্রাশের আঘাত আপনার দাঁতের শক্ত আবরণ এনামেল ক্ষয়ে যায়। ফলে, দাঁত শিরশির করা, রক্ত পড়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর সমাধানে ডাক্তাররা ডেনটাল ফ্লশ ব্যবহার করতে পরামর্শ দেন। ডেনটাল ফ্লশ কী? নরম তন্তু। আর এ নরম তন্তুর সাথে প্রাকৃতিক মিসওয়াকের তন্তুগুলো মিলিয়ে দেখতে পারেন। দাঁত ব্রাশের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জমে থাকা খাবার কণা দূরীকরণ। রাসূল (সাঃ) প্রতি আযুর সময় মিসওয়াক করতেন। যার ফলে অবশ্যই তাঁর দাঁতগুলো অসাধারণ স্মার্ট ছিলো। তিনি  নিয়মিত ৫ বার মিসওয়াক আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক করে দিতেন। কিন্তু, আমাদের জন্য অধিক কষ্টকর হতে পারে বিধায় তা করেননি। তাহলে, আপনার যতবার সম্ভব হয়, ততবারই মিসওয়াক করুন। স্মার্ট হোন।


২) সবসময় পরিপাটি থাকুন
মানুষের স্বাভাবিক প্রকৃতি অনুযায়ী একজন পরিপাটি মানুষকে দেখলে ভালো লাগে। তাঁর সাথে কথা বলতে মন চায়। রাসূল (সাঃ) কে দেখে সবাই-ই আকৃষ্ট হতো। সে যুগে সবকিছুর এতো সহজলভ্যতা ছিলো। এক টুকরো কাপড় কিবা এক জোড়া জুতোও অনেক বড় বিষয় ছিলো। তবে, রাসূল (সাঃ) এ বিষয়টি মেনটেইন করতেন। তিনি সাথে চিরুনীও রাখতেন। এ বিষয়ে একবার আয়েশা রাঃ জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাব দেন- নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সুন্দরকে ভালোবাসেন।

৩) কারো সুন্দর বিষয়ে প্রশংসা করুন
একবার কোনো এক মাসজিদে অবস্থানরত অবস্থায় আমার পার্শ্বে একজন লোক এসে একটু জায়গা চেয়ে বসতে চাইলেন। আমি সরে সুন্দর করে বসলাম। তিনি বললেন, মা-শা-আল্লাহ। এটা শুনে আমার খুবই খুশি লেগেছিল। আমি শুকরিয়া বলতে চেয়েও আর বলা হয়নি৷ এরপর থেকে আমি মা-শা-আল্লাহ বলা প্রয়োগ করি। সব মানুষই এরুপ আনন্দিত হয় আমি চেহারা দেখে আন্দাজ করি। আপনিও প্রয়োগ করতে পারেন। অপর মানুষ আপনার দোষ বলতে, বিরোধিতা করত  কিবা ক্ষতি করতেও একটু চিন্তা করবে।

৪) কথার শুরুতে -শেষে দোয়া করুন
কারো সাথে সাক্ষাতে "আপনাকে দেখে ভালো লাগলো" এবং সাক্ষাত শেষে "আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন" এ টাইপ কিছু কথা প্রয়োগ ফলপ্রসূ। দেখবেন, সে এগিয়ে এসে আপনার খোঁজ নিবে। আপনিও অসাধারণ ব্যবহার উপহার পাবেন।

৫) দাঁড়িয়ে পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন
রাসূল সাঃ কখনো দাঁড়িয়ে পানি পান করতেন না। আমাদেরকেও সেটি থেকে নিষেধ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁড়িয়ে পানি পান করলে দেহের অভ্যন্তরে আঘাত হানে। ফলত, বসে পানি পান করা-ই সুন্নাতি স্মার্টনেস।   

৬) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা থেকে বিরত থাকুন
একিভাবে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি ইউরিন বের হওয়ার ফলে বৃক্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই, সুন্নাহ ফলো করুন।



৭) উঁপুড় হয়ে শয়ন ত্যাগ করুন
জাহান্নামীদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তাই, আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা তাঁর বান্দাকে উপুড় হয়ে শোয়াতে অপছন্দ করেন। রাসূল সাঃ এ থেকে নিষেধ করেছেন। আর বিজ্ঞানীদের মতে, উপুড় হয়ে শোয়া ফুসফুসে চাপ প্রয়োগ করে। ফলে, সেটি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবং তারা ডান কাত হয়ে শোয়ার পরামর্শই দেন। যা মূলত সুন্নাহের অনুরুপ। 

৮) খাবার সঠিকভাবে খাবেন
রাসূল সাঃ ও তাঁর আসহাব কখনো অত্যাধিক খেতেন না এবং ক্ষুধাবিহীন খাবার খেতেন না। ফলত, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যেতো। সাহাবীরা কেউই ফ্যাট ছিলেন না। আর স্থূলকায় মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম থাকে। তাছাড়া খাবার পরপর ঘুমিয়ে পড়া বা লম্বা বিশ্রাম চর্বি জমায়। সেক্ষেত্রে রাসূল সাঃ দুপুরের খাবার পর সামান্য সময় বিশ্রাম নিতেন আর রাতে খাবার পর কমপক্ষে ৪০ কদম হাঁটতেন। যা সত্যিই বিজ্ঞানসম্মত।                           

৯) ধারণা করা থেকে বিরত থাকুন
ধারণা মানুষের মাঝে দন্দ আর ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। আল্লাহ বলছেন, তোমরা ধারণা করা থেকে অধিক বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই কিছু ধারণা অপরাধ। আর যেকোনো বিষয় যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন।        

১০) সবসময় আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন
আপনি আল্লাহর উপর নির্ভর করলে পেরেশান অনেক কমে আসবে। গবেষণা বলছে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানসিকভাবে প্রশান্তি পায় মুসলিম জাতি। এরপর খ্রিস্টান এরপর ইহুদী এরপর হিন্দু এরপর বৌদ্ধ এবং সবচেয়ে মানসিক অশান্তিতে ভুগে নাস্তিক জাতিগোষ্ঠী। উদাহরণত দেখুন, আপনার প্রিয়জন মারা গেলে ইসলাম বলছে প্রথমে আলহামদুলিল্লাহ পড়ুন। অতঃপর ইন্না-লিল্লাহ পড়ুন। আল্লাহর জিনিস আল্লাহ নিয়ে গেছেন৷ তার কপালে এটাই নির্ধারিত ছিলো। আপনার কিছুই করার নেই এখানে। এতে আপনার আফসোস আর অত্যাধিক চাপ আর বিষন্নতা অনেক কমবে। কিন্তু, যদি একজন নাস্তিকের প্রিয়জন চলে যায়। তাহলে, তার বিশ্বাস অনুযায়ী জৈব ক্রিয়াকলাপে কোনো ভুলে কিবা কোনো কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। সে বিশ্বাস করে চাইলেও আরো বাঁচানো যেত। সে এতে আফসোস আর বিষাদে চরমভাবে ভুগতে থাকে সীমাহীন। একজন নাস্তিক সত্যিই বিশাল সাগরের মাধ্যে অসহায়। সে কোনো তালগোল পায় না। সৃষ্টির কিছুই মেলাতে পারেনা। 

পরিশেষেঃ 
আপনি এগুলো হয়তো এমনিতেও করতে পারেন। কিন্তু, নিয়তের উপর নির্ভর করে সবকিছু বিভিন্ন হয়। সুন্নাহ পালনের নিয়তে করলে আপনার কাজ ঠিকঠাক হয়েই যাবে প্লাস সওয়াব পেয়ে যাবেন। এখানে শুধুমাত্রই স্বল্প কয়েকটি আলোচনা করা হয়েছে। এ নিয়ে লিখতে গেলে শেষ হবেনা। এ আর্টিকেল আর কতো বড়ই বা করা যায়?