কিন্তু, এর চেয়েও অনেক ঝামেলার বিষয় প্রয়োজনের তাগিদে ঝামেলা-ই মনে হয়না। কারণ, কোনো কিছুতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে স্বাভাবিকতায় চলে আসে। কিছু গুরত্বপূর্ণ টিপস নিয়ে আলোচনা করা হলো-
১) রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ুন
পর্যাপ্ত ঘুম আবশ্যিক একটা বিষয়। একজন মানুষের দৈনিক কমপক্ষে ৬-৮ ঘন্টা ঘুমানো উচিত। তবে, শুধু ঘন্টা গণনা করলেই চলবেনা। রাতের ঘুম আর দিনের ঘুমেও তফাৎ আছে। তাই, বিজ্ঞানীরা পুরুষদের রাত ৯ টার আগে এবং মহিলাদের রাত ১০ টার আগে ঘুমানোর পরামর্শ দেন।
২) প্রাতে ঘুম থেকে জাগুন
প্রাতে ঘুম থেকে জাগা শরীরের জন্য উপকারী। কারণ, ২৪ ঘন্টার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম আবহাওয়া থাকে প্রাতে। শরীর মন মনন প্রাতের আবহেই সচ্ছল হয়ে উঠে। এবং প্রাতে না ঘুমানোই সর্বোত্তম।
৩) প্রাতে খালি পেটে পানি পান করুন
খালি পেটে সকালে যত বেশি পানি খাওয়ার অভ্যাস করা যাবে ততই উপকার। সারাদিনে এই সময়ই পানি খাওয়ায় উপকার বেশি পাওয়া যায়। প্রয়োজনে প্রতি গ্লাস পানি খাওয়ার আগে প্রস্রাব করে নিলে ভালো হয়।
৪) প্রাতে মেডিটেশন করুন
গাছপালা, ঘাসের নিকটে গিয়ে জোরে প্রশ্বাস নিন। চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিন। এতে করে সারাদিন মস্তিষ্ক সচল থাকবে। আমাদের মস্তিষ্ক গৃহীত অক্সিজেনের ২০% কাজে লাগায় আর বাকি ৮০% পুরো দেহ কাজে লাগায়। তাই বুঝাই যাচ্ছে মস্তিষ্কের অক্সিজেনের প্রয়োজন বেশি। কিন্তু, আমরা সবসময় পিউর আবহাওয়ায় থাকতে পারিনা। বিভিন্ন কাজে কখনো যান-বাহনে কখনো বদ্ধ কক্ষে কখনোবা অফিসে এসব জায়গায় আমাদের মস্তিষ্ক সবসময় সমভাবে অক্সিজেন পায়না। ফলে, দেখা আমাদের মাথা ব্যথা শুরু হয় বা অস্বস্তি লাগে। কিন্তু, সকালে যদি কমপক্ষে ৫ মিনিটও মেডিটেশন করে নেয়াা যায় তাহলে সারাদিনের জন্য মস্তিষ্ক কিছু পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে রাখবে৷ যার ফলে অক্সিজেনের ঘাটতি মোকাবিলা করা মস্তিষ্কের জন্য সহজ হয়ে যায় এবং আমাদের অস্বস্তিও কমে আসে।
৫) খালি ঘাসের উপর হাঁটুন
সকালে খালি পায়ে ঘাসে হাঁটলে দেহ মনন সজীব হয়। শুধু তাই নয় খালি পায়ে হাঁটলে সাইকোলজিক্যাল উপকার রয়েছে। কারণ, এতে নিজের নগন্যতা অনুভব করা যায়।
৬) শাক-সবজি খান
শাক-সবজি নিয়মিত রুটিনে থাকা উচিত। যেমন সিম। আর অধিকাংশ দার্শনিকরাও কিন্তু নিরামিষ পছন্দ করেন। কারণ, এতে চিন্তা-শক্তি ধারালো হয়।
৭) বাজার থেকে আনা ফল-ফলাদি ভিজান
বর্তমানে সব ফলেই ফরমালিন থাকে। এর থেকে ত্রানের উপায় নেই৷ তবে, ফল যদি অনেক্ক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখা যায় তাহলে অনেকখানি ফরমালিন কেটে যায়।
৮) খাবারের সঠিক সময় নির্ধারণ করুন
খাবারের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ই একি সময়ে খাওয়া উচিত। এদিক সেদিক করলে এতে ফলাফল কম পাওয়া যায়। তাই, টাইম টু টাইম খাবার খেতে হবে।
৯) নেশা ত্যাগ করুন
ধূমপান ও মদপানসহ অন্যান্য খারাপ অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। এগুলো এড়িয়ে চললে আপনার ফুসফুস ও লিভার দুটোই ভালো থাকবে। সেইসাথে সুস্থ জীবনযাপনের পাশাপাশি টাকাও বাঁচবে। এমনকি পান, চুন, সুপারি এগুলোও এড়িয়ে চলুন।
১০) কোষের আবর্জনা পরিষ্কার করতে দিন
আপনি যদি মুসলিম হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই অবশ্যই সিয়াম পালন করুন। আর যদি মুসলিম না হন তাহলে অটোপজি করুন। অটোপজি হচ্ছে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত না খেয়ে প্রতি সপ্তাহে একদিন উপবাস করা। কারণ, সারাবছর আমরা খাই আর কোষগুলো কাজ করতেই থাকে৷ এর মাঝে কোষে অনেক আবর্জনা জমে। নিয়মিত খাদ্য গ্রহণের কোষগুলো আবর্জনা রিসাইকেল করার সুযোগ পায়না। যার ফলে এগুলো থেকে রোগ সৃষ্টি হয়। আর যখন আপনি না খেয়ে থাকেন তখন তারা এই রিসাইকেলের কাজে লেগে যায়। ফলে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। এজন্যই আমাদের দেশে রমাদান মাসে হাসপাতালগুলোতে লোকসানের রিপোর্ট হয়।
১১) কৃতজ্ঞ থাকুন
আপনি যদি মুসলিম হন তাহলে সবসময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। আলহামদুলিল্লাহ পড়ুন। সত্যিই কৃতজ্ঞ হোন। আর অমুসলিম হলেও আপনার ধর্মানুযায়ী কৃতজ্ঞ থাকুন। কারণ, এতে মস্তিষ্ক প্রশান্তি লাভ করে। স্লিপিং ডিজঅর্ডার কেটে যায়।
১২) রাতে কম খান
রাতে বেশি খেলে দেহে চর্বি জমে। তাই, কম খাওয়ার পাশাপাশি খাওয়ার পর হাটাহাটি করা ভালো।
১৩) স্মার্টফোন সঠিক স্থানে রাখুন
স্মার্টফোন এক ধরনের রেডিয়েশন ছড়ায়, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। আমরা অনেকেই ঘুমানোর সময় রাতে বালিশের নিচে কিবা মাথার পাশে রাখি। এক্ষেত্রে সারারাত সময় স্মার্টফোন আপনার মস্তিষ্কে অনেক ক্ষতি করে। বুকপকেটে স্মার্টফোন রাখা পরিহার করুন। এতে করে ফুসফুসে ক্ষতি হতে পারে। ইলেক্ট্রিক ডিভাইসের রেডিয়েশন প্রজনন ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। ফলে, সন্তান প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিতে পারে। একিভাবে ল্যাপটপও হাঁটুতে কিবা পেটে রেখে ব্যবহার করা উচিত নয়।
পরামর্শ দিয়ে শেষ করা যাবে না। অসংখ্য পরামর্শ রয়েছে। তবে, উপরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেয়া হয়েছে।